অনার্স জীবনের ইতি টানা

আজ ১০ এই জুন ২০২৬ 

আজ অনার্সের জীবনের ইতি টানলাম।

যদি ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ভর্তি আবেদন শুরু ২৮ জুলাই ২০২১ ধরা হয়, তাহলে আজ ১০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময় হয়েছে:

৪ বছর ১০ মাস ১৩ দিন 

অর্থাৎ ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আজ পর্যন্ত প্রায় ৪ বছর ১০ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে।



২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের একজন অনার্স শিক্ষার্থী হিসেবে দীর্ঘ এক অধ্যায় শেষ হলো আজ। যে পথটা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের জুলাইয়ের গরম দুপুরে ভর্তি আবেদনের মধ্য দিয়ে, সেই পথ আজ এসে থেমেছে শেষ পরীক্ষার কাগজ জমা দেওয়ার মুহূর্তে। সময়টা শুধু দিন, মাস বা বছরের হিসাব নয়; এর ভেতরে আছে হাজারো অভিজ্ঞতা, অপেক্ষা, চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা নিজের ভেতরের পরিবর্তন।


শুরুর দিনগুলো ছিল একেবারেই নতুন। বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, নতুন সিলেবাস, নতুন পরিবেশ—সবকিছুই অচেনা লাগত। ক্লাসে বসে অজানা বিষয় শুনতে শুনতে মনে হতো সামনে পথ অনেক লম্বা। প্রথম বর্ষের ভয়, পরীক্ষার প্রস্তুতির দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে সময়টা ছিল শেখার পাশাপাশি মানিয়ে নেওয়ারও। এরপর ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়ে, সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, বইয়ের পাতার বাইরে জীবনের আরেকটা শিক্ষা শুরু হয়।



মাঝের বছরগুলোতে অনেক ওঠানামা এসেছে। কখনো পরীক্ষার ফল আশানুরূপ হয়নি, কখনো আবার ভালো ফলের আনন্দ পাওয়া গেছে। কখনো পড়াশোনার চাপে রাত জেগে কাটাতে হয়েছে, আবার কখনো ক্লাস বন্ধ থাকায় দীর্ঘ বিরতি এসেছে। এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনও ঘটেছে। কিছু মানুষ দূরে সরে গেছে, কিছু নতুন মানুষ জীবনের অংশ হয়েছে। সব মিলিয়ে অনার্স জীবন শুধু পড়াশোনার সীমায় ছিল না, বরং এটা ছিল পরিপক্ব হওয়ার একটা দীর্ঘ যাত্রা।


শেষ বছরে এসে চাপটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিটি পরীক্ষা যেন একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করছিল। পরীক্ষার হলে বসে যখন শেষ প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ হয়, তখন মনে হয় এই কাগজ জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের একটা বড় অংশ পেছনে পড়ে যাচ্ছে। আজকের শেষ পরীক্ষাটা সেই অনুভূতিকে পূর্ণতা দিয়েছে। কাগজ জমা দেওয়ার মুহূর্তে মনে হয়েছে—চার বছর দশ মাসের একটি দীর্ঘ অধ্যায় নিঃশব্দে শেষ হয়ে গেল।


এই দীর্ঘ সময় শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য ছিল না, বরং নিজের ভেতরে দায়িত্ববোধ, ধৈর্য, আত্মনির্ভরতা এবং বাস্তবতার বোধ তৈরি করার সময় ছিল। অনার্স জীবন শেষ হলেও এর অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রভাব ফেলবে। এখন সামনে নতুন এক দিগন্ত, যেখানে পুরনো স্মৃতি থাকবে পেছনে, আর সামনে থাকবে নতুন সুযোগ, নতুন সংগ্রাম।


আজকের দিনটি তাই শুধু একটি পরীক্ষার শেষ নয়, বরং একটি দীর্ঘ যাত্রার পরিসমাপ্তি এবং নতুন জীবনের সূচনার দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

এই দীর্ঘ অনার্স জীবনের অনেক কিছুই এখন স্মৃতির ভাঁজে জমে থাকবে, যেগুলো আমি ভবিষ্যতে নিঃসন্দেহে মিস করবো। ক্লাসরুমের সেই পরিচিত বেঞ্চ, বন্ধুদের সাথে হঠাৎ আড্ডা, পরীক্ষার আগের রাতের অস্থিরতা, আর একসাথে পড়ার ছোট ছোট মুহূর্তগুলো এখন শুধু স্মৃতি। লাইব্রেরির নীরবতা, ক্যাম্পাসের হাঁটাহাঁটি, আর ব্যস্ত দিনের মাঝেও পরিচিত মুখগুলো দেখার স্বস্তি—সবই একদিন খুব মনে পড়বে। সবচেয়ে বেশি মিস করবো সেই সহজ সময়টা, যখন ভবিষ্যতের চাপটা এতটা ভারী ছিল না, আর জীবনটা ছিল একটু বেশি সহজ আর নির্ভেজাল।

@Rnr_Alamin


বিঃদ্রঃ-এই পোস্ট পরবর্তীতে Edit করা হবে 


Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post